অর্থ পাচারের মামলায় হাজিরা দিতে আমিরাত যাত্রা

বাংলাদেশের বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৭ই মার্চ আরব আমিরাতে যাচ্ছেন। কিন্তু এত ঘন ঘন কেনো মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে যাচ্ছেন? জানা গেছে, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় হাজিরা দিতে সেখানে যাচ্ছেন তিনি। উল্লেখ্য, তার কন্যার সাবেক স্বামী খন্দকার মাসরুর হোসাইন মিতুর আরব আমিরাতে অর্থ পাচার মামলায় কন্যা পুতুল সহ শেখ হাসিনা নিজেও আসামী। এতদিন আইনজীবির মাধ্যমে কোর্টে হাজিরা দিলেও এখন আর কোর্ট তা মানছে না। তাই হাসিনাকে তার কন্যা সহ সশরীরে আমিরাতে উপস্থিত হয়ে হাজিরা দিতে হবে। তবে রাষ্ট্রীয় পদে থাকার কারণে সম্ভবত ভার্চুয়ালি হাজিরা অথবা পাসপোর্ট জমায় হাজিরা দিতে হবে। তবে আদালত সন্তুষ্ট না হলে আটকে দিতে পারে এমন আশংকাও রয়েছে। এই হাজিরা এবং কোর্ট প্রসিডিওর আরামদায়ক করতে দফায় দফায় মন্ত্রী এবং উচ্চ পর্যায়ের সরকারী প্রতিনিধিরা আবুধাবী সফর করেন। সম্প্রতি ৫ দিনের রহস্যজনক সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন যাতে অর্জন প্রায় শুণ্য।


উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসে আরব আমিরাতের শারজাহ শহরের বুহাইরা এলাকায় আল নাসির-৫ টাওয়ারের ৩০১৩ নম্বর এপার্টমেন্ট থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন শেখ হাসিনার কন্যার জামাতা মাসরুর হোসেন মিতু। তার কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই কাতার থেকে সাড়ে ৪ কোটি দিরহাম (যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা) অর্থ এডিসিবি ব্যাংকে জমা হয় মিতুর ব্যক্তিগত একাউন্টে। নিষিদ্ধ রাষ্ট্র কাতার থেকে এত মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের হিসাব দেখে আরব আমিরাত মানি লন্ডারিং ইউনিটকে ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালায়। কারণ ঐ সময় কাতারের সাথে আরব আমিরাতের সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে সকল প্রকার চুক্তি বাতিল করেছিল আরব আমিরাত। পরে শারজাহে মিতুর ফ্লাটে তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, আইপ্যাড, অনেকগুলো ফোন ও সিম, বিপুল পরিমানে মদ ও মাদক উদ্ধার করা হয়। মিতুর পাসপোর্ট জব্দ করে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে মিতুর ৬৮০ মিলিয়ন ইউরো জব্দ করা হয়। অনেকগুলো মানি লন্ডারিং মামলা হয়। ঐ অর্থের সাথে তার স্ত্রী এবং শ্বাশুরির সম্পৃক্ততা স্বীকার করার পরে পুতুল এবং শেখ হাসিনাকে মামলায় আসামী করা হয়। দীর্ঘদিন হাজতবাস করার পরে সম্প্রতি মিতু জামিনে বের হয়েছে। কিন্তু তার আগেই কন্যাকে মামলা থেকে বাঁচাতে মিতুর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটনা শেখ হাসিনা।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.